ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের নিয়ম সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমে বলতে হয় এটি এক ধরনের
সরকারি ব্যাংকিং সেবা যেটা বাংলাদেশ সরকার দ্বারা পরিচালিত।এটি মূলত চালু করা
হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়াতে এবং গ্রামীণ ও
শহরাঞ্চলের মানুষের টাকা নিরাপদে রাখার জন্য।
বর্তমান সময়ে অনেকেই ডিপিএস করে টাকা জমা রেখে লাভবান হচ্ছেন অর্থাৎ তারা
মুনাফা পাচ্ছেন।এটি ধীরে ধীরে মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করছে। অনেক
মানুষের মাধ্যমে দারিদ্রতা দূর করতে পারছেন । তাই আপনিও দেরি না করে এখনই
প্রস্তুতি নিন ডাকঘর সঞ্চয় করার জন্য।
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের নিয়ম সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমে বলতে হয় এটি এক
ধরনের ব্যাংকিং সেবা।এটি মূলত এক ধরনের সঞ্চয় পদ্ধতি যেখানে মানুষ
তাদের টাকা জমা রাখতে পারে নিরাপদে এবং সরকারি দায়-দায়িত্বে।এর মাধ্যমে
মুনাফাপাওয়া যায়।মুনাফা পাওয়ার মাধ্যম দুটি রয়েছে একটি সাধারন হিসাব এবং
আরেকটি হলো নির্দিষ্ট মেয়াদী হিসাব। বর্তমান সময়ে দুই ধরনের হিসাবই মানুষ
ব্যবহার করছে এবং ধীরে ধীরে এটি মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ডাকঘর
সঞ্চয় ব্যাংক টাকা রাখার জন্য সঠিক জায়গা যেখানে সরকারি দায়-দায়িত্বে সকল
হিসাব রাখা হয়।
এটি আমাদের দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্যাংকিং সেবা যেখানে মানুষ তার
কষ্টের মাধ্যমে অর্জন করা টাকা রাখতে পারে খুবই নিরাপদে। এটি ব্রিটিশ আমলে
সর্বপ্রথম চালু হয়েছিল ১৮৭২ সালে এবং আজ পর্যন্ত জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য
সঞ্চয় মাধ্যম হিসেবে টিকে রয়েছে । এটি নির্ভরযোগ্য ও সঠিক মুনাফা প্রদান
করার কারণে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের এর ওপরে চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আশা
করা যায় এটি ভবিষ্যতেও মানুষকে নির্ভরযোগ্যভাবে সার্ভিস প্রদান করবে এবং
মানুষকে সহযোগিতা করে যাবে।
পোস্ট অফিস ডিপিএস কাদের জন্য ?
যেহেতু এটি একটি সরকারি ব্যাংকিং সেবা এবং সঞ্চয়ের জন্য উপযুক্ত ও
নির্ভরযোগ্য স্থান তাই নিয়ে সকলেই তাদের কষ্টের মাধ্যমে অর্জন করা
টাকা সঞ্চয় করতে পারে। ছাত্র সাধারণ মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ
শহরাঞ্চলের মানুষ গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ ডাক্তার সরকারি চাকরিজীবী শিক্ষক এক
কথায় সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষ এখানে তাদের টাকা সঞ্চয় করতে পারে।
তবে সঞ্চয় করার জন্য বা টাকা রাখার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্তাবলী রয়েছে
সেগুলো পূরণ করে ,নির্দিষ্ট কতগুলো ধাপ অতিক্রম করে ,সকল নীতিমালার
সাথে একমত হয়ে এখানে টাকা সঞ্চয় করা যায়।
ছোট শিশুদের নামেঃ শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানোর একটি চমৎকার উপায়।
এক্ষেত্রে সাধারণ হিসাব অথবা নির্দিষ্ট মেয়াদী হিসাব দুটোই ব্যবহার
করা যেতেপারে ।ছোট শিশুদের নামে যদি একাউন্ট করা হয় অথবা যদি তার বয়স ১৮
বছরেরনিচে হয় তাহলে তার পিতা মাতা অথবা পিতা-মাতা না থাকলে তার আইনিভাবে
যিনি অভিভাবক হিসাবে রয়েছে তিনি একাউন্টটি পরিচালনা করতে পারবেন ।
এরপর নাবালক প্রাপ্তবয়স্ক হলে গেলে তখন সে একাউন্টটি পরিচালনা করতে পারবে
এবং অ্যাকাউন্ট থেকে যেকোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে ।
যারা গৃহিনীঃ আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হয় যেন গ্রামীণ গৃহিণীরা শুধু
গৃহিণীহিসেবেই পরিচিত কিন্তু একটি পরিবারকে টিকিয়ে রাখার জন্য কৃষিউৎপাদনের
জন্য এবং টেকসই জীবনযাত্রার জন্য মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কিন্তু কাজ করেন এই
নারীরাই ।গ্রামীন অঞ্চলে যারা গৃহিণী মা-বোনেরা রয়েছেন এবং তাদের খুব
কষ্টের মাধ্যমে অর্জন করা টাকা তারা খুঁজে পাচ্ছেন না যে তারা কোথায় তাদের
টাকাটা নিরাপদে রাখবেন তাদের জন্য এই ব্যাংকিং ব্যবস্থাটি অনেক
কার্যকর ব্যবস্থা হবে । এর ফলে এক দিকে যেমন তারা নিশ্চিন্ত হবেন
তাদের কষ্টার্জিত টাকা নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে তেমনি তারা সেখান
থেকে যে মুনাফা পাবেন তা তাদের জন্য অনেক উপকারী হবে ।
কৃষক ভাইঃ বাংলাদেশের মেরুদন্ড হিসেবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির আসল
চালক হিসেবে আমাদের কৃষক ভাইয়েরা সবচেয়ে বেশি অবদান রাখেন ।গ্রামীণ অঞ্চলে
যারা কৃষক ভাইয়েরা রয়েছেন তারা অনেক কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করে কিন্তু
অনেক সময় দেখা যায় তারা তাদের টাকা কোথায় রাখবেন এবং কার কাছে নিরাপদে
রাখবেন এ চিন্তায় পড়ে যান কারণ এগুলো তাদের ঘাম ঝরানো টাকা তাদের
জন্য এই ব্যাংকিং ব্যবস্থাটি হবে অনেক নিরাপদ এবং তারা চিন্তামুক্ত থেকে
তাদের সকল ধরনের লেনদেন করতে পারবেন ।
সরকারি পেনশন প্রাপ্ত ও বয়স্ক নাগরিকঃ পেনশন ভুক্তকারীদের
জন্য আমাদের দেশের সরকার কিছু বিশেষ ছাড় রেখেছেন নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত
মুনাফার উপরে উচ্চ করের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পান তারা । সরকারি চাকরি শেষ
করার পরে তারা যখন অবসরে যান তখন তারা এককালীন টাকা পান।এটি তাদের জন্য
রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করে । কেননা বয়স্ক অবস্থায় তারা কোন কাজ করতে পারেন না
ফলে এই টাকাটা তাদের পরবর্তী বাকী জীবনটুকু ভালোভাবে কাটিয়ে দেওয়ার জন্য
অনেক সাহায্য করে । তাই ডাকঘর সঞ্চয়ের মাধ্যমে তারা এই টাকা থেকে মুনাফা
পাবেন এবং লাভবান হবেন ।
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে যাদের জন্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে
বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ কোন বড় ধরনের লিমিটেড কোম্পানি,
পার্টনারশিপে ব্যবসা , নিজস্ব ফার্ম আছে এমন ধরনের ব্যবসায়ী তাদের লাভের
টাকা অথবা মূল টাকা এখানে জমা রাখতে পারবেন না।কেননা এটি মূলত তৈরি করা
হয়েছে মধ্যবিত্ত এবং সাধারণ মানুষের জন্য যারা তাদের কষ্টের টাকা নিরাপদে
রাখতে চায়।যদি এমনটা না হতো তাহলে দেশের অর্থনীতির উপরে মারাত্মক চাপ তৈরি
হতো এর ফলে সরকারের সুদ বাম মুনাফা দেওয়ার খরচ বহুগুনে বেড়ে যেত।
প্রবাসীঃএটি প্রবাসীদের জন্য সরকারি ব্যাংকিং সুবিধা নয় এটি মূলত
দেশের অভ্যন্তরে বসবাসকারী নাগরিকদের কল্যাণের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা । যেহেতু
প্রবাসীদের আয় বৈদেশিক মুদ্রানীতি এবং দ্বৈতকর পরিহার চুক্তির আওতায় পড়ে
তাই তাদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়। মূলত স্থানীয় উপস্থিতিরবাধ্যবাধকতা,
রেমিটেন্সে উৎসাহ এবং দেশের অর্থনীতিতে সাহায্য করার জন্য এটি প্রবাসীদের
জন্য নয় । তাদের জন্য সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংক যেমন প্রবাসী কল্যাণ
ব্যাংক রয়েছে যার মাধ্যমে তারা টাকা সঞ্চয় করতে পারে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানঃ বিভিন্ন শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল-কলেজ,মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
যেমন মসজিদ, মন্দির ইত্যাদি সরকারের বিশেষ নিয়মের আওতাভুক্ত থাকে এই
প্রতিষ্ঠানগুলো টাকা বিনিয়োগকরার জন্য সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা থাকে ।
যেহেতু ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকব্যক্তি পর্যায়ের সাধারণ হিসাব পরিচালনা করার
জন্য তাই প্রাতিষ্ঠানিকফান্ডের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এদের এখানে
টাকা রাখা নিষিদ্ধ ।
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের প্রকারভেদ
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের দুইটি প্রকারভেদ রয়েছে একটি হলো সাধারণ হিসাব এবং
আরেকটি হল নির্দিষ্ট মেয়াদী হিসাব । দুটোই সাধারণ মানুষের জন্য
উন্মুক্ত তারা তাদের সুবিধা অনুযায়ী দুটো পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে
। এবং দুটোর মাধ্যমেই সঠিক মুনাফা পাওয়া যায় । দুটো মাধ্যমে
মানুষ তাদের প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করতে পারে । এতে কোন ধরনের
আলাদা নিয়ম নেই। তবে মুনাফা লাভের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের
হিসাবে আলাদা হয় এবং সাধারণ হিসেবে ক্ষেত্রে আলাদা হয়।
সাধারণ হিসাবঃ
সাধারণ সঞ্চয় হিসাবের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ইচ্ছামত টাকা জমা রাখতে পারে
এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা উত্তোলন করতে পারে। এটি
মূলত দৈনন্দিন সঞ্চার জন্য উপযুক্ত। কেননা এর মাধ্যমে অল্প টাকা দিয়ে
হিসাব খোলা যায়,প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার টাকা জমা করা যায়,
এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা উত্তোলন করা যায় । সাধারণ হিসাবে
প্রতি ১০০ টাকায় ৭.৫০ টাকা মুনাফা প্রদান করা হয় এবং এটি সরল
মুনাফা হিসাবে দেওয়া হয় কোন চক্র বৃদ্ধি হিসাবে নয় । এ ধরনের হিসাবের
ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা জমা দিতে হয় ।
নির্দিষ্ট মেয়াদী হিসাবঃ
নির্দিষ্ট মেয়াদী হিসাবের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি এককালীন ১,২ অথবা ৩ বছর
মেয়াদে টাকা জমা রাখে। এক্ষেত্রে তার মুনাফার হার হয় ১১.২৮ শতাংশ। তিন
বছর মেয়াদে টাকা সঞ্চয় করলে এবং তিন বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না
করেই প্রথম মুনাফা তুলতে চাইলে তাকে প্রথম বছর শেষে ১০.২০ শতাংশ
,দ্বিতীয় বছর শেষে ১০.৭০ শতাংশ এবং তৃতীয় বছর শেষে ১১.২৮ শতাংশ
হারে মুনাফা প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা জমা দিতে
হয়।বিনিয়োগ করার পরিমাণ সীমা অতিক্রম করলে মুনাফা
কিছুটা কমে।
মুনাফার ওপর টাকা কাটার নিয়ম
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী মোট লাভের অংশ থেকে সরকার
কিছুটা কেটে নেয় এটাকে মুনাফা কর্তন বলা হয় ।এক্ষেত্রে দুটি
বিষয় লক্ষ্যণীয়, E-TIN থাকলে এক ধরনের মুনাফা কাটার নিয়ম
এবং E-TIN না থাকলে আরেক ধরনের মুনাফা কাটার নিয়ম। কিন্তু প্রথমে আমাদের
জানতে হবে যে E-TIN আসলে কি ? কেননা E-TIN কি এটা না জানলে
আমরা পরবর্তী বিষয়গুলো বুঝতে পারব না। E-TIN এর পূর্ণরূপ হলো(Electronic
Taxpayer Indentification Number)এটি মূলত ডিজিটাল উপায়ে করদাতা
শনাক্তকরণের জন্য নাম্বার এটি ১২ ডিজিটের হয়ে থাকে যা বাংলাদেশ সরকারের
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) প্রতিটি করদাতাকে দিয়ে থাকে ।
এটি মূলত এক ধরনের ডিজিটাল সার্টিফিকেট যা প্রমাণ করে যে আপনি বাংলাদেশ
সরকারের কর ব্যবস্থার সাথে নিবন্ধিত ।আমাদের দেশে অনেকেই মনে করেন যে,
E-TIN খুললেই মনে হয় সরকারকে প্রতিবছর কর দিতে হয় কিন্তু এটি
আসলে ভুল ধারণা। আপনার ইনকাম যতক্ষণ পর্যন্ত করযোগ্য সীমার নিচে
থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে কর দিতে হবে না । আগে এটি বাধ্যতামূলক
ছিল না, কিন্তু বর্তমান সময়ে নাগরিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন সুবিধা
পাওয়ার জন্য এটি খোলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ।
উৎসে কর কর্তন (TDS)
E-TIN থাকলে ১০ শতাংশ করঃ এক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির তিন
বছরে যদি মোট লাভের অংশ ১০০,০০০ টাকা হয় তাহলে তাকে ১০% কর
হিসাবে ১০,০০০ কর্তন করা হবে । এবং মূল টাকার সাথে ১০% কর
বাদ দিয়ে যত টাকা থাকবে তা যোগ করে করে দেওয়া হবে । এখানে যদি মূল টাকা
৫ লক্ষ টাকা হয় এবং মোট লাভের অংশ ১ লক্ষ টাকা হয় তাহলে ১ লক্ষ
টাকা থেকে ১০% কর বাদ দিলে ৯০,০০০ + ৫০০,০০০( মূল
টাকা) মোট ৫৯০,০০০ টাকা প্রদান করা হবে ।
E-TIN না থাকলে ১৫ শতাংশ করঃ এক্ষেত্রে আগেরটির মতো সবকিছু ঠিক
থাকবে শুধুমাত্র অতিরিক্ত ৫ শতাংশ টাকা কেটে নেওয়া হবে । অর্থাৎ মূলটাকা
যদি ৫০০,০০০ টাকা হয় এবং মোট লাভের অংশযদি ১০০,০০০ হয়
তাহলে ১৫% কর অর্থাৎ ১৫,০০০ টাকা বাদ দিয়ে ৫০০,০০০ + ৮৫,০০০ মোট
৫৮৫,০০০ টাকা প্রদান করা হবে । অর্থাৎ আমরা বুঝতে পারলাম যে যদি
E-TIN থাকে তাহলে আমরা সরকার থেকে একদিকে যেমন বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাব
তেমনি এদিকেও কর কিছুটা কমে আসবে।
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের টাকা জমার সর্বোচ্চ সীমা
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে টাকা জমা রাখার নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। সেই
সীমা অতিক্রম করলে সঞ্চয়কারী ব্যক্তিকে মুনাফা থেকে কিছু অংশ কমিয়ে
দেওয়া হয় । কেননা এর মাধ্যমে সরকারের সরকারের মুনাফা দেওয়ার খরচ
বহুবনে বেড়ে যাবে যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি
করবে । যদি কোন সর্বোচ্চ সীমা না থাকতো তবে এটি সার্বিক দিক থেকে
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং সাধারণ ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য বড় বিপর্যয়
থেকে আনত।
একক হিসাবঃ একক হিসাব হলো যেখানে একজন ব্যক্তি সম্পূর্ণ নিজের নামে একক
মালিকানায় একাউন্ট খুলতে পারেন ।এ ধরনের মালিকানার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র
একজন ব্যক্তি তার সম্পূর্ণ মালিকানায় অর্থ জমা উত্তোলন এবং পরিচালনার
অধিকার রাখেন। এ ধরনের হিসাবের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ
টাকা জমা রাখতে পারেন এবং এবং জমাকৃত অর্থের ওপর সরকার নির্দিষ্ট
হারে মুনাফা প্রদান করেন এবং তিনি এটি তার প্রয়োজন অনুযায়ী যখন ইচ্ছা
তুলতে পারেন।
যৌথ হিসাবঃ যৌথ হিসাব হল দুজন ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত সঞ্চয় একাউন্ট
। এটি খোলার সময় দুজনের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী করা হয় ।
এক্ষেত্রে একাউন্টের মালিক দুজনই হয়ে থাকেন । যেমন স্বামী-স্ত্রী,
বাবা-মা অথবা বাবা-ছেলে যেকোনো দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যৌথ হিসাব
খুলতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়
করতে পারে। অর্থাৎ প্রতি জন সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা । এ ধরনের সঞ্চয়
একাউন্ট এর ক্ষেত্রেও সরকার নির্দিষ্ট হারে মুনাফা প্রদান করে
।
সম্মিলিত সীমাঃ একজন নাগরিক ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সর্বমোট স্কিম
মিলে একক নামে সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা এবং যৌথ নামে সর্বোচ্চ ১.২ কোটি
টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় করতে পারবেন । অর্থাৎ এখানে একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে
সাধারণ হিসাব থেকে ৩০ লক্ষ টাকা এবং নির্দিষ্ট মেয়াদী হিসাব থেকে ৩০
লক্ষ টাকা মোট ৬০ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে । একইভাবে যৌথ হিসাবের ক্ষেত্রেও
২ টা মিলিয়ে একসঙ্গে ১.২ কোটি টাকা ধরা হয়েছে ।
পোস্ট অফিস ডিপিএস এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বাংলাদেশের যে কোন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক একক অথবা যৌথ নামে দেশের যে কোন
ডাকঘর শাখা থেকে এই একাউন্টটি খুলতে পারবেন অভিভাবকরা অপ্রাপ্তবয়স্কদের
পক্ষেও একাউন্টটি খুলতে পারবেন । পরবর্তীতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু আঠারো
বছর বয়স পূর্ণ হলে সে নিজেই অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করতে পারবে।এক্ষেত্রে
তাদের প্রয়োজনের কাগজপত্র গুলো হলো: ১/ আবেদনকারীর ( NID)
এর কপি ,অথবা পাসপোর্ট অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এর ফটোকপি ।
২/ আবেদনকারীর সদ্য তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি
। ৩/ নমিনি মনোনয়নের ক্ষেত্রে যাকে নমিনি হিসেবে মনোনীত করা
হবে তার এক কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং নমিনির (NID) কার্ডের
ফটোকপি । ৪/ আবেদনকারীর ১২ ডিজিটের ই-টিন সার্টিফিকেটের কপি (উৎস কর ১০%
এ নামিয়ে আনতে এটি অত্যন্ত জরুরী) ৫/ আবেদনকারের ঠিকানার
নিশ্চায়নের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের গ্যাস, বিদ্যুৎ অথবা পানির
বিলের ফটোকপি ।
আবেদন করার সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক এ ২০২৩ সাল থেকে নতুন ডিজিটাল পদ্ধতিতে হিসাব
পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পোস্ট
ডিপিএসের জন্য আবেদনকারীকে একবার হলেও ডাকঘরে উপস্থিত হয়ে
পরিচয় যাচাই, কাগজপত্র জমা এবং হিসাব চালু করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন
করতে হয় । এখানে সরাসরি ডাকঘরে গিয়ে আবেদন করতে হয় । বর্তমানে
পোস্ট ডিপিএস এর ডিজিটাল সিস্টেম চালু হওয়ার কারণে অনলাইনে আবেদন বা
তথ্য নিবন্ধনের সুবিধা থাকলেও
পুরো প্রক্রিয়াটিঘরে বসে শেষ করা যায় না তাই ডাকঘরে গিয়ে আবেদন
প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় । এটিই হল সবচেয়ে প্রচলিত ও সহজ পদ্ধতি ।
কেননা এর মাধ্যমে যদি কোন কাগজপত্রে ভুল থাকে তাহলে তা
তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করা যায় এবং একবারেই সবকিছু যাচাই করা যায়
। সবকিছু যাচাই শেষে এবং নমিনি নির্বাচন করা হলে প্রাথমিক
টাকা জমা দেওয়ার পরে ১ থেকে ৩ কর্ম দিবসের মধ্যেই
তারা পাসবুক প্রদান করে । তাই নিকটস্থ প্রধান বা উপ ডাকঘরে
যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি যুক্তিযুক্ত।
মেয়াদ পূর্তির আগে টাকা তোলার নিয়ম
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি যদি তিন বছর মেয়াদী
হিসাব খোলে এবং তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যেকোনো সময় টাকা তুলে নিতে
চাই তবে সে একাউন্টটি ভেঙে টাকা তুলে নিতে পারবেন।এটাকে বলা হয়
“মেয়াদ পূর্তির আগে নগদায়ন”। কোন ব্যক্তি যদি এক বছরের আগে একাউন্ট
ভেঙে ফেলেন তাহলে তিনি কোন মুনাফা পাবেন নাশুধুমাত্র জমা করা মূল
টাকাটাই ফেরত পাবেন। আবার যদি কোন ব্যক্তি এক বছর পূর্ণ হবার পর
একাউন্টটি ভাঙেন তাহলে প্রথম বছরের জন্য তার মুনাফার হার হবে ১০.২০%
।
তাকে পূর্ণ নির্ধারিত হারে অর্থাৎ ১১.২৮% এই হারে মুনাফা
প্রদান করবে না । দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর যদি একাউন্ট ভাঙ্গে
তাহলে দ্বিতীয় বছরের জন্য তার মুনাফার হার হবে ১০.৭০% ।আবার এক্ষেত্রে
আরো দুটি বিষয় রয়েছে। কোন ব্যক্তি যদি জরুরি প্রয়োজনে এক বছর দুই
মাস পর অ্যাকাউন্টটি ভেঙে ফেলেন তাহলে নিয়ম অনুযায়ী সেই ব্যক্তি এক
বছরের জন্য ১০.২০% হারে মুনাফা পাবেন কিন্তু পরবর্তী দুই মাসের জন্য
তিনি কোন মুনাফা পাবেন না । আবার ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের ক্ষেত্রে
প্রতি ছয় মাস পর পর মুনাফা তোলারএকটি সুবিধা রয়েছে ।
তাই কোন ব্যক্তি যদি ৬ মাস পর ১১.২৮% হারে মুনাফা তুলে থাকেন এবং এক
বছর পর যখন তিনি একাউন্টটি ভাঙতে চাইবেন তখন তাকে ১০.২০% হারে মুনাফা
দেওয়া হবে এবং অগ্রিম যে ৬ মাসের মুনাফা বেশি হারে তুলেছেন সেটা
হিসাব করে মূল টাকা থেকে কর্তন করা হবে ।ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক বা পোস্ট
ডিপিএস এ আংশিকটাকা উত্তোলন করা যায় না কোন ব্যক্তি যদি ৫ লক্ষ টাকা
জমা রাখে এবং টাকার প্রয়োজনে ১ লক্ষ টাকা তুলতে চাই তাহলে তাকে
পুরো একাউন্টটি ভাঙতে হবে এবং নিজের কাছে ১ লক্ষ টাকা রেখে ৪
লক্ষ টাকা দিয়ে নতুন ভাবে আবার সঞ্চয় একাউন্ট তৈরি করতে হবে অর্থাৎ
এখানে আংশিক টাকা উত্তোলন করার কোন উপায় নেই।
পোস্ট ডিপিএস অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফারের নিয়ম
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক বা পোস্ট ডিপিএস একাউন্ট এক পোস্ট
অফিস থেকে অন্য পোস্ট অফিসে স্থানান্তর করা যায় । যদি কোন ব্যক্তি
অন্য জেলায় চলে যায় চাকরির জন্য অথবা বসবাসের জন্য তাহলে সে
ব্যক্তি ওই জেলাতে তার একাউন্টটি ট্রান্সফার করে নিতে পারে । একাউন্ট
ট্রান্সফারের জন্য সর্বপ্রথম যে পোস্ট অফিসে ওই ব্যক্তির
অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেখানে গিয়ে অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফারের জন্য তাকে
আবেদন করতে হবে। সেখানে তাকে একটি ট্রান্সফার অ্যাপ্লিকেশন পূরণ করতে
হবে
এবং সেখানে উল্লেখ করতে হবে বর্তমান পোস্ট অফিসের নাম, যে পোস্ট
অফিসে তার একাউন্টটি স্থানান্তর করতে চায় তার নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর
এবং তিনি কেন একাউন্টটি স্থানান্তর করতে চাচ্ছেন তার কারণ । এখানে
একাউন্ট ট্রান্সফারের সময় তাকে সাথে করে মূল পাসবুক, জাতীয় পরিচয়
পত্রের কপি এবং প্রয়োজন অনুসারে রঙিন পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি
নিয়ে যেতে হবে । এরপর বর্তমান পোস্ট অফিস ওই ব্যক্তির আবেদন যাচাই
করে তার নতুন পোস্ট অফিসে একাউন্টের তথ্য পাঠাবে ।
নতুন পোস্ট অফিস রেকর্ড গ্রহণ করার পর সেটি সক্রিয় করবেন এবং সেখান
থেকে ওই ব্যক্তি পরবর্তীতে টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারবে অর্থাৎ
লেনদেন করতে পারবে । এই পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে ৭ থেকে ১৫
কর্মদিবস লাগতে পারে । তবে দুটি পোস্ট অফিসের মধ্যে একাউন্টের তথ্য
আদান-প্রদানের ওপর নির্ভর করে সময় কম বা বেশি হতে পারে । এই একাউন্ট
ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে কোন আলাদা চার্জ বা টাকা পয়সা দিতে হয় না
এটি সরকারিভাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করে দেওয়া হয় ।
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের নিয়ম সম্পর্কে শেষ কথা
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের নিয়ম মেনে একাউন্ট পরিচালনা করলে তা অনেক
উপকারী হবে। যা মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সরকারি চাকরিজীবী দরিদ্র ও
গ্রামীণ মানুষের কষ্ট অর্জিত অর্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য চালু করা
হয়েছে । যাতে এই ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে তারা উপকৃত হতে পারে । এটি
কোন বড় ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লিমিটেড কোম্পানি অথবা ধর্মীয়
প্রতিষ্ঠান স্কুল কলেজ মাদ্রাসা এগুলোর জন্য তৈরি করা হয়নি । এই ধরনের
প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের ভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে।
তাই এ সকল প্রতিষ্ঠানের উচিত তাদের ওই সকল নির্দেশনা মেনে কাজ
করা।এগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে সরকারের । সকলের
উচিত এটির আসল উদ্দেশ্য বুঝে প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করা।কোন অসৎ
উপায়ে বা মুনাফা লাভের আসায় অতিরিক্ত অর্থবিনিয়োগ করা যাবে না এর
ফলে দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক ঝুঁকি আসতে পারে।নিয়মিত সঞ্চয় এর
অভ্যাস গড়ে তোলা ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি
নিশ্চয়তায় সুবিধা পাওয়ার জন্য এটি বর্তমানে মানুষের কাছে একটি ভালো
ব্যবস্থা ।
ইনফোজারো আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url