কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়?

কিডনির কার্যক্ষমতা যখন কমে যায় তখন আমাদের অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন আসে - কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়? মূলত শুধু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দেখেই ডায়ালাইসিস শুরু করা হয় না বরং রোগীর শারীরিক অবস্থা, পরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসকের 

কিডনির-পয়েন্ট-কত-হলে-ডায়ালাইসিস-করতে-হয়

মূল্যায়ন এ সকল কিছু একসাথে বিবেচনা করা হয়।আজকের এই আর্টিকেলে আমরা কিডনির পয়েন্ট বা eGFR- এটা কী, ডায়ালাইসিস করার কখন প্রয়োজনীয়তা পড়ে, কোন লক্ষণগুলো সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যায় এবং কিডনি সুস্থ রাখতে কি কি নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয় এ সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

পেজ সূচিপত্রঃ কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়

কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়

আমাদের মধ্যে অনেক রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাবার খবর শুনে চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং মনে আসে যে কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়।কিন্তু বাস্তবে শুধু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দেখেই ডায়ালাইসিস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না বরং চিকিৎসক কিডনির কার্যক্ষমতা, রক্ত পরীক্ষার ফলাফল, প্রস্রাবের অবস্থা এবং রোগীর শারীরিক লক্ষণ একসাথে গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নেন যে ডায়ালাইসিস এর প্রয়োজন আছে কিনা।

সাধারণত কিডনির কার্যক্ষমতা খুব বেশি কমে গেলে এবং eGFR-প্রায় ১৫ ml/min/1.73m2 বা তার নিচে নেমে আসলে ডায়ালাইসিস এর বিষয়টি একটু গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে এক হয় না কারণ সকল রোগের শারীরিক অবস্থা একরকম থাকে না। কারো ক্ষেত্রে কিডনির কার্যক্ষমতা একই মাত্রায় দেখা দিলেও তেমন কোন জটিল উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে।আবার অন্য কারো ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, শরীরে অতিরিক্ত পানি জমা, রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে ডাক্তার আরো আগেই ডায়ালাইসিস শুরু করার নির্দেশ দিতে পারেন।

কিডনির পয়েন্ট বলতে কী বোঝায়

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় “কিডনির পয়েন্ট” বলে কোন নির্দিষ্ট পরীক্ষার নাম নাই। সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার জন্য “কিডনির পয়েন্ট” এই কথাটি ব্যবহার করে থাকেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি মূলত eGFR (Estimated Glomerular Filtration Rate) এটিকে নির্দেশ করে, এটি প্রতি মিনিটে কিডনি কতটা দক্ষতার সাথে রক্ত ছাকনির মত পরিশোধন করতে পারছে তা অনুমান করা হয়। তাই কিডনির অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে ডাক্তাররা eGFR এর ফলাফল কে গুরুত্বপূর্ণ মানদন্ড হিসেবে বিবেচনা করেন।

তবে ডাক্তাররা শুধুমাত্র eGFR দেখেই কিডনির অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।এর পাশাপাশি রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা, প্রস্রাবের বিভিন্ন পরীক্ষা, রোগীর বয়স, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মত আরো অন্যান্য শারীরিক সমস্যা এবং লক্ষণগুলো বিবেচনা করেন। এ সকল তথ্য একসাথে গবেষণা বা বিশ্লেষণ করার পরেই ডাক্তাররা কিডনির ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন। মূলত কিডনির পয়েন্ট বলতে এটিই বোঝায়।

কিভাবে কিডনির কার্যক্ষমতা নির্ণয় করা হয়

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    ইনফোজারো আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url