কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়?

কিডনির কার্যক্ষমতা যখন কমে যায় তখন আমাদের অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন আসে-কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়? মূলত শুধু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দেখেই ডায়ালাইসিস শুরু করা হয় না বরং রোগীর শারীরিক অবস্থা, পরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসকের 

কিডনির-পয়েন্ট-কত-হলে-ডায়ালাইসিস-করতে-হয়

মূল্যায়ন এ সকল কিছু একসাথে বিবেচনা করা হয়।আজকের এই আর্টিকেলে আমরা কিডনির পয়েন্ট বা eGFR- এটা কী, ডায়ালাইসিস করার কখন প্রয়োজনীয়তা পড়ে, কোন লক্ষণগুলো সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যায় এবং কিডনি সুস্থ রাখতে কি কি নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয় এ সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

পেজ সূচিপত্রঃ কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়

কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়

আমাদের মধ্যে অনেক রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাবার খবর শুনে চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং মনে আসে যে কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়।কিন্তু বাস্তবে শুধু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দেখেই ডায়ালাইসিস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না বরং চিকিৎসক কিডনির কার্যক্ষমতা, রক্ত পরীক্ষার ফলাফল, প্রস্রাবের অবস্থা এবং রোগীর শারীরিক লক্ষণ একসাথে গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নেন যে ডায়ালাইসিস এর প্রয়োজন আছে কিনা।

সাধারণত কিডনির কার্যক্ষমতা খুব বেশি কমে গেলে এবং eGFR-প্রায় ১৫ ml/min/1.73m2 বা তার নিচে নেমে আসলে ডায়ালাইসিস এর বিষয়টি একটু গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে এক হয় না কারণ সকল রোগের শারীরিক অবস্থা একরকম থাকে না। কারো ক্ষেত্রে কিডনির কার্যক্ষমতা একই মাত্রায় দেখা দিলেও তেমন কোন জটিল উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে।আবার অন্য কারো ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, শরীরে অতিরিক্ত পানি জমা, রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে ডাক্তার আরো আগেই ডায়ালাইসিস শুরু করার নির্দেশ দিতে পারেন।

কিডনির পয়েন্ট বলতে কী বোঝায়

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় “কিডনির পয়েন্ট” বলে কোন নির্দিষ্ট পরীক্ষার নাম নাই। সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার জন্য “কিডনির পয়েন্ট” এই কথাটি ব্যবহার করে থাকেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি মূলত eGFR (Estimated Glomerular Filtration Rate) এটিকে নির্দেশ করে, এটি প্রতি মিনিটে কিডনি কতটা দক্ষতার সাথে রক্ত ছাকনির মত পরিশোধন করতে পারছে তা অনুমান করা হয়। তাই কিডনির অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে ডাক্তাররা eGFR এর ফলাফল কে গুরুত্বপূর্ণ মানদন্ড হিসেবে বিবেচনা করেন।

তবে ডাক্তাররা শুধুমাত্র eGFR দেখেই কিডনির অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।এর পাশাপাশি রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা, প্রস্রাবের বিভিন্ন পরীক্ষা, রোগীর বয়স, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মত আরো অন্যান্য শারীরিক সমস্যা এবং লক্ষণগুলো বিবেচনা করেন। এ সকল তথ্য একসাথে গবেষণা বা বিশ্লেষণ করার পরেই ডাক্তাররা কিডনির ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন। মূলত কিডনির পয়েন্ট বলতে এটিই বোঝায়।

আরও পড়ুনঃ ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক বা পোস্ট অফিস ডিপিএস এর নিয়ম।

কিভাবে কিডনির কার্যক্ষমতা নির্ণয় করা হয়

কিডনির কার্যক্ষমতা নির্ণয় করার জন্য ডাক্তার শুধু একটি পরীক্ষার উপরেই নির্ভর করেন না বরং প্রথমে রক্ত পরীক্ষা করে ক্রিয়েটিনিন এর মাত্রা দেখেন। এরপর সেই ফলাফল, রোগীর বয়স ও লিঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি তথ্যের ভিত্তিতে eGFR (Estimated Glomerular Filtration Rate) হিসাব করেন। এই eGFR থেকেই জানা যায় কিডনি কতটুকু দক্ষতার সাথে রক্তের ভেতরের ক্ষতিকর পদার্থ ছেঁকে শরীর থেকে বের করে দিতে পারছে। এর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুসারে প্রস্রাবের পরীক্ষার মাধ্যমেও কিডনির ক্ষতিকর লক্ষণ আছে কিনা তা যাচাই করা হয়।

শুধু পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে কিডনির অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত  ডাক্তাররা নেন না বরং ডাক্তাররা রোগীর শারীরিক লক্ষণ যেমন শরীরে ফোলা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া অতিরিক্ত দুর্বলতা শ্বাসকষ্ট বা উচ্চ রক্তচাপের মত শারীরিক সমস্যাগুলোকে গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করেন। প্রয়োজন হলে কিডনির আলট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য পরীক্ষাও করে থাকেন। সকল তথ্য একসাথে বিশ্লেষণ করার পর কিডনির প্রকৃত বা আসল কার্যক্ষমতা নির্ণয়করেন এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেন।

eGFR কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

eGFR (Estimated Glomerular Filtration Rate) হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বা মানদন্ড যা কিডনি প্রতি মিনিটে কতটুকু দক্ষতার সাথে রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বা বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করে দিতে পারছে তার একটা আনুমানিক ধারনা। এই মানটা সাধারণত রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা, রোগীর বয়স এবং লিঙ্গের ভিত্তিতে নির্ণয় করা হয়। কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ি ডাক্তাররা eGFR কে অন্যতম নির্ভরযোগ্য মানদন্ড হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন কারণ এটি কিডনির বর্তমান অবস্থার একটি স্পষ্ট ধারণা দিতে সাহায্য করে।

eGFR-এর মান যত কমতে থাকে, ততই বোঝা যায় কিডনির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। তবে শুধু একটি eGFR রিপোর্ট দেখেই কোন রোগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না বরং ডাক্তাররা রোগীর শারীরিক রোগের লক্ষণ, রক্ত ও প্রস্রাবের অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল এবং সার্বিক স্বাস্থ্যগত অবস্থায় একসাথে মূল্যায়ন করেন। তাই কিডনির রোগ দ্রুত শনাক্ত করা, রোগের অবস্থা কেমন সেটা নির্ণয় করা এবং ডায়ালাইসিস বা অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কিনা সেটা নির্ধারণে eGFR গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সব রোগীর ডায়ালাইসিস পয়েন্ট কি এক 

আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে, কিডনির একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে পৌঁছালেই মনে হয় সকলের জন্য ডায়ালাইসিস শুরু করতে হয়। কিন্তু আসল বিষয়টা এতটাও সহজ নয়। একই eGFR বা কিডনির কার্যক্ষমতা থাকা সত্বেও দুইজন রোগীর শারীরিক অবস্থা একেবারে আলাদা হতে পারে। কারণ একজনের ক্ষেত্রে তেমন কোন খারাপ বা জটিল লক্ষণ নাও থাকতে পারে। আবার অন্য জনের ক্ষেত্রে একই অবস্থায় গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই শুধু একটি সংখ্যা দেখেই সকল রোগের জন্য একই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

কিডনির-পয়েন্ট-কত-হলে-ডায়ালাইসিস-করতে-হয়
ডায়ালাইসিস শুরু করার আগে ডাক্তার রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা রক্ত, পরীক্ষার ফলাফল, প্রস্রাবের পরিমাণ, শরীরে পানি জমেছে কিনা রক্তের পটাশিয়ামের মাত্রা ঠিক রয়েছে কিনা এবং অন্যান্য সকল গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো বিবেচনা করেন। তারপর দেখেন এই রোগের জন্য ডায়ালাইসিস এর প্রয়োজন আছে কিনা  অর্থাৎ ডায়ালাইসিসের সিদ্ধান্ত ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে এবং এটি সবসময় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া উচিত। উক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় সকল রোগের ডায়ালাইসিস পয়েন্ট একই হয় না।

আরও পড়ুনঃ ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক বা পোস্ট অফিস ডিপিএস এর নিয়ম।

ডায়ালাইসিস এর আগে কী লক্ষণ দেখা যায়

কিডনির কার্যক্ষমতা যখন অনেক কমে যায়, তখন শরীরে ধীরে ধীরে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। সাধারণ লক্ষণ গুলোর মধ্যে যেগুলো রয়েছে সেগুলো হল অতিরিক্ত দুর্বলতা, সব সময় ক্লান্তি অনুভব করা, ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব হওয়া, পা বা মুখ ফুলে যাওয়া এবং প্রস্রাবের পরিমাণ পরিবর্তন হওয়া। অনেকের ক্ষেত্রেই রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় আবার অনেকের ক্ষেত্রে আবার উল্টোটা ঘটে যেমন প্রস্রাব কমে যাওয়ার মত সমস্যা দেখা যায়।এসব লক্ষণ অনেকদিন ধরে থাকলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কিন্তু এসব লক্ষণ থাকলেই যে ডায়ালাইসিস শুরু করতে হবে এটাও কিন্তু নয়। কারণ, অনেক সময় একই ধরনের লক্ষণ অন্য রোগের কারণেও দেখা দিতে পারে। তাই ডাক্তার রক্ত প্রস্রাবের বিভিন্ন পরীক্ষা, eGFR এর মান, ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করেন। এরপর যদি মনে হয় যে রোগীর কিডনির কার্যক্ষমতা খুব বেশি কমে গেছে এবং শরীরে জটিল রোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তখন রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে ডায়ালাইসিস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তাররা।

ডায়ালাইসিস এর ধরন ও পদ্ধতি

আমাদের শরীরে কিডনি যখন স্বাভাবিকভাবে রক্ত পরিষ্কার বা পরিশোধন করতে পারে না তখন ডাক্তাররা একটি নির্দিষ্ট উপায়ে রক্ত পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন এটাকে ডায়ালাইসিস বলা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে মূলত দুই ধরনের ডায়ালাইসিস পদ্ধতির সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। একটি হলো “হেমো ডায়ালাইসিস”(Hemo Dialysis) আরেকটি হলো“পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস”(Peritoneal Dialysis)। নিচে আমরা দুই ধরনের ডায়ালাইসিস পদ্ধতির সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

হেমো ডায়ালাইসিস(Hemo Dialysis)-হেমো ডায়ালাইসিস হল এমন এক ধরনের পদ্ধতি যেখানে শরীরের রক্ত একটি আধুনিক মেশিনের সাহায্যে পরিষ্কার করা হয়। এই পদ্ধতিতে রোগীর হাতের শিরা ও ধমনীকে অপারেশনের মাধ্যমে যুক্ত করে একটি বিশেষ পথ তৈরি করা হয় রক্ত আদান-প্রদানের জন্য। এই পদ্ধতিতে রোগীকে সাধারণত সপ্তাহের ২ থেকে ৩ দিন হাসপাতালে বা ডায়ালাইসিস সেন্টারে যেতে হয় এবং প্রতি সেশনের প্রায় ৪ ঘন্টা সময় লাগে। এই পদ্ধতিতে নার্স রা সবকিছু করে দেন বলে রোগীকে কিছু করতে হয় না।

পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস(Peritoneal Dialysis)-এই পদ্ধতিতে কোন মেশিনের প্রয়োজন হয় না বরং রোগীর পেটের ভেতরের প্রাকৃতিক পর্দাকে ছাকনি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে অপারেশনের মাধ্যমে রোগীর পেটে একটি নরম নল স্থায়ীভাবে বসানো হয় যার সাথে বিশেষ তরল  পদার্থ ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। পেটের ভেতরে তরল পদার্থটি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি শুষে নেয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর সেই দূষিত তরল পদার্থ বের করে আবার নতুন তরল পদার্থ দেওয়া হয়।

কীভাবে ডায়ালাইসিসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়

ডায়ালাইসিস করার সিদ্ধান্ত কখনোই শুধু একটা পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে নেওয়া হয় না বরং ডাক্তাররা প্রথমে রোগীর eGFR, অর্থাৎ রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং কিডনির কার্যক্ষমতা কতটা কমে গেছে সেগুলো মূল্যায়ন করেন। এর পাশাপাশি রোগীর শারীরিক উপসর্গ যেমন শ্বাসকষ্ট শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে থাকা বমি বমি ভাব হওয়া অতিরিক্ত দুর্বল অনুভব করা বা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মত সমস্যা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হয়। এসব তথ্য একসাথে বিবেচনা করার পরেই ডাক্তাররা ডাইালিসিস 

এর প্রয়োজন আছে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।আবার প্রতিটি রোগীর শারীরিক অবস্থা ও রোগের অগ্রগতি আলাদা হওয়ার কারণে ডায়ালাইসিস শুরু করার সময় ও সবার ক্ষেত্রে এক হয় না। কারো ক্ষেত্রে ঔষধ,খাদ্যভ্যাস ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয় আবার কারো ক্ষেত্রে জটিল উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ডায়ালাইসিস শুরু করার প্রয়োজন হয়। তাই নিজে থেকে কোন সিদ্ধান্ত না নিয়ে কিডনি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর।

আরও পড়ুনঃ ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক বা পোস্ট অফিস ডিপিএস এর নিয়ম।

ডায়ালাইসিস চলাকালীন খাদ্যাভাস ও জীবনযাপন

ডায়ালাইসিস চলাকালীন শুধু চিকিৎসা নিলেই হবে না, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাপন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এ সময় ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের সাহায্যে তাদের থেকে পরামর্শ নিয়ে খাদ্য নির্বাচন করতে হবে। যাতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পায় কিন্তু কিডনির ওপর এর কোন ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে লবণ, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও অতিরিক্ত পানি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে সুষম প্রোটিন গ্রহণ, নির্ধারিত ঔষধ নিয়মিত সেবন 

এবং সময়মতো ডায়ালাইসিস করা রোগীর সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, কেননা পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া ,ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা শারীরিক ব্যায়াম করা, ধূমপান ও অ্যালকোহল জাতীয় নেশাদার দ্রব্য থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। এভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া এবং সচেতন ভাবে জীবন যাপনের মাধ্যমে ডায়ালাইসিস নেওয়া একজন রোগী দীর্ঘদিন স্বাভাবিক ও কর্মতম জীবন যাপন করতে পারেন।

কিডনি ভালো রাখার কার্যকর উপায়

কিডনি ভালো রাখতে হলে দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত লবণ জাতীয় খাবার  না খাওয়া এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করার মাধ্যমে কিডনিকে দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব। একই সাথে ধূমপান ও মাদক জাতীয় অভ্যাস পরিহার করা এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ব্যাথা নাশক ঔষধ না খাওয়া। এ সকল নিয়মকানুন গুলো মেনে চললে, কিডনির গুরুতর ক্ষতি প্রতিরোধে করা সম্ভব।

কিডনির-পয়েন্ট-কত-হলে-ডায়ালাইসিস-করতে-হয়

এছাড়াও ডায়াবেটিক্স, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। কারণ এসব রোগ কিডনির ওপর উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। বছরে অন্তত একবার কিডনির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কোন অস্বাভাবিক লক্ষণ যদি দেখা দেয় তাহলে খুব দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। একটি সচেতন জীবন যাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং দীর্ঘদিন কিডনিকে ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ

১. কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়?

সাধারণত, eGFR প্রায় ১৫ ml/min/1.73m2 বা তার নিচে নেমে আসলে ডায়ালাইসিস এর বিষয়টা বিবেচনা করা হয়।

২. ডায়ালাইসিস কি সারা জীবন করতে হয়?

সব সময় নয়। যাদের কিডনি সাময়িকভাবে অকার্যকর হয় তারা কিছুদিন ডায়ালাইসিসের পর সুস্থ থাকেন তবে স্থায়ী কিডনি বিকল হলে দীর্ঘমেয়াদে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে।

৩. সপ্তাহে কয়বার ডায়ালাইসিস করতে হয়?

হেমোডায়ালাইসিস নেওয়া অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে সপ্তাহে সাধারণত, তিনবার ডায়ালাইসিস করা হয় তবে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ডাক্তার এই সময় পরিবর্তন করতে পারেন।

৪. ডায়ালাইসিস শুরু হলে কি কিডনি পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়?

না । ডায়ালাইসিস কিডনির বিকল্প চিকিৎসা। এটি কিডনি সম্পূর্ণ ভালো করে তোলে না ।এর কাজ হলো কিডনি ঠিকমতো কাজ করতে না পারলে রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করা।

৫. ডায়ালাইসিস কি খুব ব্যথাদায়ক হয়?

ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়া সাধারণত তীব্র ব্যাথাদায়ক হয় না। শুরুতে সুচ প্রবেশ করানোর সময় সামান্য ব্যাথা লাগতে পারে তবে বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসা চলাকালে স্বাভাবিকই থাকেন।

উপসংহার

কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয় ?--এই প্রশ্নের কোন একক বা নির্দিষ্ট উত্তর নেই ।যদিও অনেক ক্ষেত্রে eGFR প্রায় ১৫ বা তার নিচে নেমে গেলে ডায়ালাইসিসের বিষয়টা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হয়। তবুও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে রোগীর শারীরিক অবস্থা ,পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর। তাই শুধু একটি সংখ্যা দেখে ভয়  না পেয়ে সব সময়

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিডনির রোগ সম্পর্কে সচেতনতা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন কিডনিকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সাহায্য করে কোন অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে বা দেখতে পেলে দেরি না করে খুব তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে গেলে অনেক জটিল সমস্যা এড়ানো সম্ভব। সকলের উচিত নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন গড়ে তোলার অভ্যাস করা।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    ইনফোজারো আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url